
ছবি: সংগৃহীত
আগামী ২০২৫-২৬ অর্থবছরের বাজেটে সরকারের প্রধান লক্ষ্য হবে ৬% জিডিপি প্রবৃদ্ধি অর্জন এবং মূল্যস্ফীতি সাড়ে ছয় শতাংশের মধ্যে রাখা। অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আসন্ন বাজেটের আকার প্রায় আট লাখ কোটি টাকা হতে পারে, যা গত বছরের সংশোধিত বাজেটের তুলনায় প্রায় ৭.৫% বেশি।
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, ৬% জিডিপি প্রবৃদ্ধি অর্জন কঠিন হতে পারে, কারণ বিনিয়োগে ধীরগতি এবং রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার কারণে বর্তমানে অর্থনীতি চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। গত বছরের ডিসেম্বরে আইএমএফ বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস ৩.৮% দিয়েছিল, এবং আগামী অর্থবছরে প্রবৃদ্ধি ৬.৭% হওয়ার সম্ভাবনা বলেও তারা জানিয়েছিল।
এদিকে, রপ্তানি খাতেও কিছু ভালো খবর এসেছে। চলতি অর্থবছরের জুলাই থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত রপ্তানি ১০.৫% বেড়ে ৩২.৯ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। তবে, বিনিয়োগ বৃদ্ধি পেলে এই প্রবৃদ্ধি আরও ত্বরান্বিত হতে পারে, যা সরকারের ৬% জিডিপি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য অর্জনে সহায়তা করবে।
আইএমএফ মিশন চলাকালীন সময়ে, সরকারকে রাজস্ব আদায় বাড়ানোর পাশাপাশি কর সংস্কারের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে হতে পারে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জন্য সরকার পাঁচ লাখ ৮৫ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্য রেখেছে, যা গত বছরের সংশোধিত বাজেটের তুলনায় প্রায় ১৩% বেশি।
বিশ্বব্যাংকের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ জাহিদ হোসেন এবং অন্যান্য অর্থনীতিবিদরা মনে করেন, রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা এবং বিনিয়োগের ধীরগতি থাকলে ৬% প্রবৃদ্ধি অর্জন কঠিন হবে, তবে তা সম্ভব করার জন্য সরকারের উচিত অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং সামাজিক নিরাপত্তা বৃদ্ধির পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের পণ্যের চাহিদা বৃদ্ধি করা।
বাংলাবার্তা/এমএইচ