
ছবি: সংগৃহীত
আন্তর্জাতিক বাজারে সয়াবিন তেলের দাম কমতে থাকলেও দেশের বাজারে ফের মূল্যবৃদ্ধির পরিকল্পনা করছে মিল মালিকরা। ৩১ মার্চ শুল্কছাড়ের মেয়াদ শেষ হওয়ার পরপরই তারা ১ এপ্রিল থেকে বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম লিটারে ১৮ টাকা এবং খোলা তেলের দাম ১৩ টাকা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
এই মূল্যবৃদ্ধির সিদ্ধান্ত ইতোমধ্যেই বাস্তবায়নের পথে রয়েছে, এবং ঈদের ছুটি শেষে নতুন দামে তেল বাজারে ছাড়া হবে। ফলে সাধারণ ভোক্তাদের জন্য বাড়তি ব্যয়ের বোঝা আবারও বেড়ে যেতে পারে।
মূল্যবৃদ্ধির কারণ ও ব্যবসায়ীদের ভূমিকা:
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, বাংলাদেশে ভোজ্যতেল আমদানির পরিমাণ গত কয়েক মাসে উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংক ও আমদানি নিয়ন্ত্রকের কার্যালয়ের তথ্য অনুসারে, চলতি অর্থবছরের জানুয়ারি পর্যন্ত দেশে ১০.৯৫ মিলিয়ন টন সয়াবিন ও পামতেল আমদানি হয়েছে, যা গত বছরের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি।
তবে মিল মালিকদের দাবি, ৩১ মার্চ শুল্কছাড়ের মেয়াদ শেষ হওয়ার ফলে তাদের উৎপাদন খরচ বেড়ে যাবে। এর ফলে তারা সরকারের অনুমোদন ছাড়াই দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
ভোক্তা সংগঠনের প্রতিক্রিয়া:
কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) ভাইস প্রেসিডেন্ট এসএম নাজের হোসাইন বলেন, "এটি ব্যবসায়ীদের সুস্পষ্ট কারসাজি। আমদানি করা তেল এখনো বাজারে পর্যাপ্ত পরিমাণে রয়েছে। নতুন শুল্ক যুক্ত হলেও তা কার্যকর হতে কমপক্ষে ৪৫ দিন সময় লাগবে। কিন্তু তার আগেই মূল্যবৃদ্ধির উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে, যা অযৌক্তিক।"
বাজার পরিস্থিতি:
রাজধানীর বিভিন্ন খুচরা বাজারে ইতোমধ্যে সয়াবিন তেলের দাম কিছুটা বেড়েছে। পাইকারি ব্যবসায়ীদের দাবি, কোম্পানিগুলো এখনো নতুন দামের তেল সরবরাহ শুরু করেনি, তবে তাদের পক্ষ থেকে দাম বৃদ্ধির ঘোষণা আসছে। ফলে আগামী সপ্তাহ থেকে তেলের বাজারে নতুন করে অস্থিরতা সৃষ্টি হতে পারে।
ট্যারিফ কমিশনের সুপারিশ:
বাজার স্থিতিশীল রাখতে বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশন শুল্কছাড়ের মেয়াদ ৩০ জুন পর্যন্ত বাড়ানোর সুপারিশ করেছে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে। তবে এই সিদ্ধান্ত আসার আগেই ব্যবসায়ীরা মূল্যবৃদ্ধির পরিকল্পনা করে ফেলেছে, যা নতুন সংকট তৈরি করতে পারে।
বাংলাবার্তা/এমএইচ