
ফাইল ছবি
২০০২ সালে আনন্দধারা ফটোসুন্দরী প্রতিযোগিতার মাধ্যমে বিনোদন জগতে প্রবেশ করেন জনপ্রিয় অভিনেত্রী ও মডেল শ্রাবস্তী দত্ত তিন্নি। ২০০৪ সালে মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর নাটক ‘৬৯’ ধারাবাহিকে দীপা চরিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেন তিনি। এরপর একের পর এক নাটক ও মডেলিংয়ের মাধ্যমে টেলিভিশন জগতে নিজের স্থান পাকাপোক্ত করেন। ‘অপেক্ষা’, ‘নীল কুয়াশা’, ‘বৃষ্টি তোমাকে দিলাম’ এবং ‘সুখের অসুখ’সহ অসংখ্য সফল নাটকে তার উপস্থিতি দর্শকদের হৃদয়ে গভীরভাবে জায়গা করে নেয়।
তার অভিনয় প্রতিভার সুবাদে তিনি সিনেমাতেও অভিষিক্ত হন, মোস্তফা সরয়ার ফারুকী পরিচালিত ‘মেড ইন বাংলাদেশ’ এবং নূরুল আলম আতিকের ‘ডুবসাঁতার’ ছবিতে অভিনয় করেন। কিন্তু তার ক্যারিয়ার শীর্ষে পৌঁছানোর পর একসময় ব্যক্তিগত জীবনের অস্থিরতায় অভিনয় থেকে সরে যান তিন্নি।
বর্তমানে কানাডার মন্ট্রিয়লে বসবাস করছেন তিন্নি। ২০১৭ সালে তিনি মেয়ে ওয়ারিশাকে নিয়ে দেশ ছাড়েন এবং সেখানে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে তিন্নি জানান, কানাডায় তার জীবন যাত্রা বেশ কঠিন, বিশেষত সেখানকার বাস্তবতায় সকাল ৬টায় উঠে অফিস যাওয়ার অভ্যস্ততা ও রুটিন জীবন। তিনি বলেন, “ঢাকায় কাজের সময় গৃহকর্মী ছিল, কিন্তু এখানে সব কিছু নিজেই করতে হয়। ঢাকার জীবনের সেই সহজতা অনেক মিস করি।”
দেশে ফিরতে চান, তবে সময়ের অভাবের কারণে তা সম্ভব হয়নি এখনো। তিনি জানান, “ইচ্ছা আছে, তবে এখানে নাগরিকত্ব পেয়েছি এবং জীবনের চাহিদা ও পরিস্থিতি অনুযায়ী দেশে ফেরার পরিকল্পনা করছি।”
তিন্নি আরো বলেন, বিদেশে বসে বাংলাদেশের নাটক ও ওয়েব সিরিজ দেখেন এবং পুরনো সহকর্মীদের কাজ দেখে তাদের অভিনয় মিস করেন। “কখনো কখনো ভাবি, এভাবে তো অনেক দিন কাজ করার কথা ছিল, কিন্তু আমি তো নেই,” দীর্ঘশ্বাস নিয়ে বলেন তিন্নি। তিনি বলেন, "মাঝে মাঝে কল্পনায় নিজেকে দেশে ফিরে ক্যামেরার সামনে দাঁড়িয়ে দেখতে চাই।"
তার জীবনের এক অধ্যায় ছিল অস্থিরতা, যা তার অভিনয় ক্যারিয়ারের স্থিরতা কেড়ে নিয়েছিল। তিনি এও বলেন, “মিডিয়া এমন একটি জায়গা, একবার লাইনচ্যুত হলে, লাইনে ফিরে আসা খুব কঠিন। আজ এই সত্যটা আমি গভীরভাবে অনুভব করছি।”
বাংলাবার্তা/এমএইচ