
ছবি: সংগৃহীত
প্রতি বছর হাজার হাজার মানুষ ফুসফুসজনিত নানা রোগে আক্রান্ত হন, যার মধ্যে নিউমোনিয়া অন্যতম। অনেকেই ঠাণ্ডা-কাশিকে সাধারণ ফ্লু ভেবে অবহেলা করেন, অথচ এটি নিউমোনিয়ার মতো গুরুতর রোগের লক্ষণও হতে পারে।
নিউমোনিয়া কী?
নিউমোনিয়া মূলত ফুসফুসের একটি সংক্রমণ, যেখানে বায়ুপ্রবাহের বিভিন্ন অংশে তরল ও পুঁজ জমতে পারে। এর ফলে শ্বাস-প্রশ্বাসে সমস্যা দেখা দেয়। ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস বা ফাঙ্গাসের সংক্রমণের কারণে নিউমোনিয়া হতে পারে।
কারা বেশি ঝুঁকিতে?
বিশেষজ্ঞদের মতে, যাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম, যেমন- বয়স ৬৫ বছরের বেশি, শিশু (২ বছরের নিচে), ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, ক্যানসার বা এইচআইভি রোগীরা নিউমোনিয়ার ঝুঁকিতে রয়েছেন।
নিউমোনিয়ার লক্ষণ ও ঠাণ্ডা-কাশির সঙ্গে পার্থক্য
সাধারণ ঠাণ্ডা-কাশি হলে জ্বর, হালকা কাশি ও নাক বন্ধ থাকতে পারে। তবে নিউমোনিয়ার ক্ষেত্রে লক্ষণগুলো আরও গুরুতর হতে পারে—
কাশির সঙ্গে কফ বা পুঁজ বের হওয়া
বুকে প্রচণ্ড ব্যথা
জ্বর (১০২ ডিগ্রি ফারেনহাইটের বেশি)
প্রচণ্ড ক্লান্তি ও দুর্বলতা
শ্বাসকষ্ট
বমি ও কাঁপুনি দিয়ে জ্বর
বিভ্রান্তি (বিশেষ করে বয়স্কদের ক্ষেত্রে)
শিশুদের মধ্যে নিউমোনিয়ার লক্ষণ কম স্পষ্ট হতে পারে। নবজাতকদের ক্ষেত্রে জ্বর, বমি ও অতিরিক্ত ক্লান্তি দেখা দিতে পারে।
কখন চিকিৎসকের পরামর্শ নেবেন?
যদি শ্বাসকষ্ট হয়
যদি জ্বর ১০২ ডিগ্রির বেশি হয়
যদি কাশির সঙ্গে পুঁজ বের হয়
যদি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম থাকে (ক্যানসার বা কেমোথেরাপি চলমান থাকলে)
নিউমোনিয়ার চিকিৎসা
ব্যাকটেরিয়ার কারণে হলে অ্যান্টিবায়োটিক, ভাইরাসজনিত হলে অ্যান্টিভাইরাল ওষুধ, এবং ফাঙ্গাস থেকে সংক্রমিত হলে অ্যান্টিফাঙ্গাল ওষুধ ব্যবহার করা হয়।
সতর্কতা ও প্রতিরোধ
পর্যাপ্ত বিশ্রাম নিন
প্রচুর পানি পান করুন
ধূমপান এড়িয়ে চলুন
নিউমোনিয়া ও ফ্লু ভ্যাকসিন নিন
সাধারণ ঠাণ্ডা-কাশি ও নিউমোনিয়ার লক্ষণ প্রায় কাছাকাছি হলেও গুরুতর উপসর্গ দেখা দিলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।
বাংলাবার্তা/এমএইচ