
ছবি: সংগৃহীত
সোশ্যাল মিডিয়া এখন আর শুধু যোগাযোগের মাধ্যম নয়, বরং এটি আর্ট এবং সৃজনশীলতার ক্ষেত্রেও একটি নতুন প্ল্যাটফর্ম হয়ে দাঁড়িয়েছে। বর্তমানে সোশ্যাল মিডিয়ার বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে ভাইরাল হয়ে উঠেছে ‘জিবলি আর্ট’, যা ইন্টারনেট ব্যবহারকারীদের মাঝে একটি নতুন আলোচনার সূচনা করেছে। তবে, আসলেই কী এই ‘জিবলি আর্ট’? কেন এটি এত জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে? এবং কীভাবে এটি সোশ্যাল মিডিয়াতে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে? চলুন, বিস্তারিত জানি।
‘জিবলি আর্ট’ কী?
‘জিবলি আর্ট’ মূলত ডিজিটাল আর্টের একটি নতুন রূপ, যা স্বতন্ত্রভাবে প্রাণবন্ত এবং গতিশীল থাকে। "জিবলি" শব্দটি জাপানি শব্দ "গিবলি" থেকে এসেছে, যা একটি হালকা ঝড় বা বাতাসকে বোঝায়। তবে, এখানে এটি ব্যবহার করা হয়েছে একটি বিশেষ ধরনের ডিজিটাল পেইন্টিং বা অ্যানিমেশন তৈরির ধারণার মধ্যে। জিবলি আর্টে একটি ছবি বা চরিত্রকে জীবন্ত করে তোলার উদ্দেশ্যে সৃষ্টিশীলভাবে ডিজিটাল টেকনোলজির মাধ্যমে নানা মুভমেন্ট ও ইমোশন অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
কেন ‘জিবলি আর্ট’ ভাইরাল?
‘জিবলি আর্ট’-এর জনপ্রিয়তার অন্যতম কারণ হলো এর বৈশিষ্ট্য, যা অন্যান্য ডিজিটাল আর্ট থেকে একেবারে আলাদা। এই আর্ট ফর্মে ব্যবহারকারীরা তাদের ছবি বা ডিজাইনকে এমনভাবে উপস্থাপন করেন যে তা দেখতে প্রাকৃতিক, জীবন্ত এবং বাস্তবের কাছাকাছি মনে হয়। সোশ্যাল মিডিয়ায় মানুষের আগ্রহের অন্যতম কারণ হলো এই আর্টের প্রাণবন্ততা এবং তার মধ্যে থাকা সৃজনশীলতা।
সোশ্যাল মিডিয়ার তরুণ প্রজন্মের মধ্যে এমন নতুন ধারার আর্ট ফর্ম গ্রহণযোগ্যতা পায়, কারণ তারা বিভিন্ন ফিল্টার, এফেক্ট ও ডিজিটাল টুলসের মাধ্যমে তাদের নিজের সৃষ্টিকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলতে পারে। বিশেষ করে ইনস্টাগ্রাম, টিকটক ও পিন্টারেস্টের মতো প্ল্যাটফর্মগুলোতে এই ‘জিবলি আর্ট’ ব্যাপকভাবে শেয়ার হচ্ছে, যার ফলে এটি দ্রুত ভাইরাল হয়ে যাচ্ছে।
‘জিবলি আর্ট’ কীভাবে তৈরি করা হয়?
‘জিবলি আর্ট’ তৈরি করতে সাধারণত বিভিন্ন ডিজিটাল পেইন্টিং সফটওয়্যার ব্যবহার করা হয়, যেমন অ্যাডোবি ফটোশপ, ইলাস্ট্রেটর, বা পেইন্টিং অ্যাপ্লিকেশন। অনেক শিল্পী প্রথমে একটি স্ট্যাটিক ছবি তৈরি করেন, তারপর বিভিন্ন সৃজনশীল টেকনিকের মাধ্যমে সেই ছবিকে জীবন্ত করে তোলেন। এতে অতিরিক্ত মুভমেন্ট, সাউন্ড ইফেক্ট, বা অ্যনিমেটেড ইলেমেন্টও যোগ করা হয়ে থাকে, যা ছবিটিকে আরও প্রাণবন্ত করে তোলে। এই ধরনের ডিজিটাল আর্ট তৈরি করতে নির্দিষ্ট দক্ষতা এবং প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়, যার মাধ্যমে শিল্পীরা তাদের কাজকে আরও পরিপূর্ণ ও জীবন্ত করে তোলেন।
প্রসার এবং সামাজিক প্রভাব
এই আর্ট ফর্মটি সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যাপকভাবে জনপ্রিয় হওয়ার ফলে অনেক শিল্পী এবং ডিজাইনার তাদের কাজের মাধ্যমে পরিচিতি লাভ করছেন। শুধুমাত্র ফ্রি টাইমে আর্ট তৈরি করা নয়, এটি এখন অনেকের জন্য একটি পেশাগত ক্ষেত্র হয়ে উঠেছে। পাশাপাশি, অনেক কোম্পানি এবং ব্র্যান্ডও তাদের মার্কেটিং ক্যাম্পেইনে ‘জিবলি আর্ট’-এর ব্যবহার শুরু করেছে, যা তাদের প্রোডাক্ট বা সার্ভিসের প্রোমোশনকে আরও সৃজনশীল ও আকর্ষণীয় করে তোলে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন ডিজাইন অধ্যাপক জানান, "জিবলি আর্ট শুধু একটি সৃজনশীল মাধ্যম নয়, এটি প্রযুক্তির সাথে আর্টের মেলবন্ধন ঘটিয়ে নতুন এক যুগের সূচনা করেছে। এটি ডিজিটাল আর্টের দুনিয়ায় নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে, যা ভবিষ্যতে আরও জনপ্রিয়তা পাবে।"
নির্মাণ এবং সম্ভাবনা
‘জিবলি আর্ট’ সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের কাছে একটি নতুন বিনোদন ও সৃজনশীলতা প্রকাশের মাধ্যম হিসেবে জায়গা করে নিয়েছে। এতে যেমন ব্যবহারকারীরা নিজেদের মনের ভাবনা ও কল্পনাকে প্রকাশ করতে পারছেন, তেমনি এটি ডিজিটাল আর্টের প্রসারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
এখন দেখা যাচ্ছে, নানা ধরনের মিডিয়া এবং প্ল্যাটফর্মে ‘জিবলি আর্ট’ ক্রমেই জনপ্রিয় হয়ে উঠছে এবং এটি ডিজিটাল কনটেন্টের নতুন এক দিগন্ত উন্মোচন করছে।
বাংলাবার্তা/এমএইচ