
ছবি: সংগৃহীত
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের শুল্ক আরোপের হুঁশিয়ারির পর ভারতের সরকার গুগল, মেটা (ফেসবুক)-সহ অন্যান্য প্রতিষ্ঠানগুলোর অনলাইন বিজ্ঞাপন পরিষেবায় আরোপিত ৬ শতাংশ ডিজিটাল কর তুলে নেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে। এই প্রস্তাব ভারতের সংসদে পাস হয়েছে এবং আগামী ১ এপ্রিল থেকে এই কর আর নেওয়া হবে না। এই কর, যা ‘গুগল কর’ নামে পরিচিত, একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন হিসেবে দেখা যাচ্ছে।
ভারতের সংসদে গত ২৪ মার্চ এই সংশোধনী প্রস্তাবটি উপস্থাপন করা হয়েছিল, এবং মঙ্গলবার এটি পাস হয়েছে। অর্থ বিলে প্রস্তাবিত অন্যান্য সংশোধনীগুলোর মধ্যে এই ডিজিটাল করের সিদ্ধান্ত ছিল অন্যতম। একে ‘গুগল কর’ হিসেবে পরিচিত করা হলেও, এর মাধ্যমে বিশ্বের বিভিন্ন বৃহৎ টেক কোম্পানির কাছ থেকে ভারতে বিপুল পরিমাণ অর্থ আদায় করা হতো।
২০২১ সালে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার রাজ্যসভায় এক লিখিত প্রশ্নের উত্তরে জানিয়েছিল, ২০১৬-১৭ সালে ডিজিটাল কর হিসেবে ৩৩৮.৬ কোটি রুপি, ২০১৭-১৮ সালে ৫৮৯.৪ কোটি রুপি এবং ২০১৮-১৯ সালে ৯৩৮.৯ কোটি রুপি আদায় করা হয়েছিল। ২০১৯-২০ সালে এই সংগ্রহ ছিল ১,১৩৬.৫ কোটি রুপি এবং ২০২০-২১ সালে (৩০ জানুয়ারি পর্যন্ত) ১,৪৯২.৭ কোটি রুপি। তবে এবার এই করটি তুলে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প আগেই হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন, যে সব দেশ মার্কিন পণ্যের উপর শুল্ক আরোপ করবে, সেই দেশগুলোর পণ্যের উপরও পাল্টা শুল্ক আরোপ করবে যুক্তরাষ্ট্র। এর পরিপ্রেক্ষিতে তিনি ঘোষণা করেন, ২ এপ্রিল থেকে ভারত, চীন এবং অন্যান্য দেশের উপর শুল্ক চাপানো হবে। তিনি বলেছিলেন, "যে দেশ আমাদের উপর শুল্ক আরোপ করবে, আমরাও তাদের উপর পাল্টা শুল্ক আরোপ করব।"
এমন পরিস্থিতিতে ট্রাম্পকে শান্ত করার লক্ষ্যে ভারত এই ডিজিটাল কর তুলে নিয়েছে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন। মার্কিন প্রেসিডেন্টের হুঁশিয়ারির কারণে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সম্পর্কের ওপর এর প্রভাব পড়ে, এবং এই পদক্ষেপের মাধ্যমে ভারতের উদ্দেশ্য ছিল একটি কৌশলগত সমঝোতা তৈরি করা।
ভারতের এই পদক্ষেপ বিশ্বের বৃহত্তম প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর জন্য এক গুরুত্বপূর্ণ মোড়, কারণ এই করটিই তাদের ব্যবসার একটি অংশ ছিল। তবে, ভারতের এই সিদ্ধান্ত আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সম্পর্কের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনতে পারে, এবং অনেকেই মনে করছেন, এটি ভারতের মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।
বাংলাবার্তা/এমএইচ