
ছবি: সংগৃহীত
মাত্র দুই মাসের যুদ্ধবিরতির পর আবারও ভয়ংকর রূপ নিয়েছে গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযান। গত ১৮ মার্চ থেকে শুরু হওয়া দ্বিতীয় দফার অভিযানে গত ১৫ দিনে গাজায় প্রাণ হারিয়েছেন এক হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি। শিশু, নারী, বয়স্ক কেউই রক্ষা পাচ্ছে না।
এই অবস্থাকে কেন্দ্র করে আবারও আন্তর্জাতিকভাবে চাপের মুখে পড়েছে ইসরায়েল। জাতিসংঘের মহাসচিব থেকে শুরু করে বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা গাজার এই সহিংসতা বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। এমনকি আন্তর্জাতিক বিচার আদালত আইসিজে-তেও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে গণহত্যার মামলা চলমান রয়েছে।
উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের আকস্মিক হামলার পর থেকে গাজায় অভিযান শুরু করে আইডিএফ। প্রথম পর্বে কয়েক মাস ধরে চলে ভয়াবহ বিমান ও স্থল হামলা, যার ফলে প্রাণ হারায় হাজার হাজার মানুষ। আন্তর্জাতিক চাপের মুখে ১৯ জানুয়ারি যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দিলেও তা স্থায়ী হয়নি।
বর্তমানে হামাসের হাতে আটক থাকা ২৫১ জন জিম্মির মধ্যে মাত্র ৩৫ জন জীবিত থাকার ধারণা করছে আইডিএফ। ইসরায়েলি বাহিনী ঘোষণা দিয়েছে, “সামরিক অভিযান চালিয়েই জিম্মিদের মুক্ত করা হবে।”
তবে মানবাধিকারকর্মী ও বিশ্লেষকদের প্রশ্ন—জিম্মি উদ্ধারের নামে যে বোমা হামলায় শত শত শিশু প্রতিদিন প্রাণ হারাচ্ছে, তার নৈতিকতা ও বৈধতা কোথায়?
দ্বিতীয় দফা এই অভিযানের শুরুতেই দেখা দিয়েছে ভয়াবহ খাদ্য সংকট, স্বাস্থ্যসেবার অভাব, এবং অবরোধে আটকে পড়া লাখো মানুষের দুর্দশা। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় আশঙ্কা করছে, এই অভিযান অব্যাহত থাকলে এটি আরও ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয়ে রূপ নিতে পারে।
বাংলাবার্তা/এমএইচ