
ছবি: সংগৃহীত
থাইল্যান্ডের ব্যাংককে অনুষ্ঠিতব্য বে অব বেঙ্গল ইনিশিয়েটিভ ফর মাল্টিসেক্টরাল টেকনিক্যাল অ্যান্ড ইকোনমিক কোঅপারেশন (বিমসটেক) সম্মেলনের ফাঁকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
আজ বৃহস্পতিবার ব্যাংককের উদ্দেশ্যে ঢাকা ত্যাগ করবেন ড. ইউনূস। প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের একটি সূত্র বাসসকে জানিয়েছে যে, এ বৈঠক নিয়ে ইতোমধ্যে প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের জন্য অপেক্ষা করা হচ্ছে।
দ্বিপক্ষীয় আলোচনার গুরুত্ব
বুধবার রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে প্রধান উপদেষ্টার হাই রিপ্রেজেন্টেটিভ খলিলুর রহমান বলেন, “এ ধরনের সম্মেলনের ফাঁকে বিভিন্ন দেশের সরকারপ্রধানদের মধ্যে বৈঠক হওয়া স্বাভাবিক বিষয়। আমরা আশাবাদী যে, নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে প্রধান উপদেষ্টার বৈঠক হবে। তবে যতক্ষণ না বৈঠক নিশ্চিত হচ্ছে, এ বিষয়ে কিছু বলা সম্ভব নয়।”
তিনি আরও জানান, বিমসটেক সম্মেলনের শেষ দিনে, অর্থাৎ শুক্রবার, বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা আনুষ্ঠানিকভাবে চেয়ারম্যানের দায়িত্ব গ্রহণ করবেন। আগামী দুই বছর এই দায়িত্ব পালন করবে বাংলাদেশ।
কানেকটিভিটি এবং সেভেন সিস্টার্স প্রসঙ্গে মতামত
সম্প্রতি চীন সফরের সময় প্রধান উপদেষ্টার দেওয়া বক্তব্য সম্পর্কে ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে খলিলুর রহমান বলেন, “কানেকটিভিটি এই অঞ্চলের অর্থনৈতিক সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করবে। বিশেষ করে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোর জন্য এটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তবে বাংলাদেশ কোনো কিছু চাপিয়ে দিতে চায় না। এটি যে গ্রহণ করবে, সেটি তার সিদ্ধান্ত।”
তিনি উল্লেখ করেন, ২০১২ সালেও প্রধান উপদেষ্টা সেভেন সিস্টার্স রাজ্যগুলো নিয়ে একই ধরনের মন্তব্য করেছিলেন। ২০২৩ সালে জাপানের প্রধানমন্ত্রী দিল্লিতে গিয়ে বলেছিলেন যে, উত্তর-পূর্ব ভারত এবং বাংলাদেশকে একটি সম্মিলিত অর্থনৈতিক ভ্যালু চেইনের আওতায় আনা যেতে পারে। এটি ‘বিগ বে ইনিশিয়েটিভ’ নামে পরিচিত।
রোহিঙ্গা সংকটের সমাধান নিয়ে আলোচনা
রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে বিমসটেক সম্মেলনে কোনো আলোচনা হবে কিনা জানতে চাইলে খলিলুর রহমান বলেন, “রোহিঙ্গা ইস্যুতে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে আলাপ আলোচনা হয়, তবে সব আলোচনা প্রকাশ করা সম্ভব নয়। এই বিষয়ে আমরা ক্ষমাপ্রার্থী।”
প্রেস ব্রিফিংয়ে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম এবং ডেপুটি প্রেস সচিব আবুল কালাম আজাদ মজুমদার উপস্থিত ছিলেন।
আগামী দিনগুলোতে এই বৈঠকের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ও আলোচনার বিষয়বস্তু নিয়ে আরও বিস্তারিত তথ্য জানা যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বাংলাবার্তা/এমএইচ