
ছবি: সংগৃহীত
নেপিদো, ৪ এপ্রিল: মিয়ানমারে এক শতকের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা ৩০০০ ছাড়িয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির সরকারি কর্মকর্তারা। চীনের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের বরাত দিয়ে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
গত শুক্রবার ৭.৭ মাত্রার এই ভূমিকম্পটি মিয়ানমারের মান্দালয় শহরসহ বিস্তীর্ণ অঞ্চলে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ চালায়। বহু ভবন বিধ্বস্ত হয়েছে, সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে এবং ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো।
ত্রাণ সহায়তা ও যুদ্ধবিরতি ঘোষণা
আন্তর্জাতিক ত্রাণ সংস্থাগুলো ভূমিকম্পবিধ্বস্ত এলাকায় আশ্রয়, বিশুদ্ধ পানি এবং ওষুধের তীব্র সংকটের কথা জানিয়ে দ্রুত সহায়তার আহ্বান জানিয়েছে। এই আহ্বানের পরিপ্রেক্ষিতে মিয়ানমারের জান্তা সরকার ২০ দিনের জন্য যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করেছে।
সরকারি ঘোষণা অনুযায়ী, ভূমিকম্প পরবর্তী উদ্ধার ও ত্রাণ তৎপরতা নির্বিঘ্ন করতে এই যুদ্ধবিরতি দেওয়া হয়েছে। তবে জান্তা সরকার স্পষ্ট জানিয়েছে, বিদ্রোহীরা যদি হামলা চালায়, তবে পাল্টা ‘যথোপযুক্ত ব্যবস্থা’ নেওয়া হবে।
মানবিক সংকটের আরও অবনতি
ভূমিকম্পের ফলে মিয়ানমারে মানবিক সংকট চরম আকার ধারণ করেছে। বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন, সরকারিভাবে যে মৃতের সংখ্যা জানানো হচ্ছে, প্রকৃত সংখ্যা তার চেয়েও অনেক বেশি হতে পারে। বহু মানুষ ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়ে আছে এবং অনেক এলাকা এখনো উদ্ধারকর্মীদের নাগালের বাইরে।
উল্লেখ্য, ২০২১ সালের সামরিক অভ্যুত্থানের পর থেকে মিয়ানমারে রাজনৈতিক অস্থিরতা ও সংঘাত চলছে। সামরিক জান্তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন জাতিগত মিলিশিয়া এবং প্রতিরোধ বাহিনী লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে। এই ভূমিকম্প পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে, কারণ অনেক এলাকা যেখানে বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলোর নিয়ন্ত্রণ রয়েছে, সেখানে ত্রাণ পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়েছে।
বাংলাবার্তা/এমএইচ