
ছবি: সংগৃহীত
থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককে অনুষ্ঠিত বিমসটেক সম্মেলনে অংশ নিয়ে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস দেশের ভবিষ্যৎ নিয়ে শক্তিশালী ও সুসংগঠিত বার্তা দিয়েছেন। তাঁর ভাষণে ছিল একটি পরিষ্কার সংকেত—বাংলাদেশে দ্রুত সময়ের মধ্যেই একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক জাতীয় নির্বাচন আয়োজন করা হবে।
ড. ইউনূস বলেন, “আমার সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার হলো নির্বাচন। প্রয়োজনীয় সংস্কার সম্পন্ন হলেই আমরা জনগণের কাছে ফিরে যাব।”
তিনি আরও বলেন, “এটি কোনো ব্যক্তিগত বা গোষ্ঠীগত সরকারের সময় নয়। আমরা এসেছি একটি দায়িত্ব পালনের জন্য—গণতন্ত্র ফিরিয়ে দিতে।”
ড. ইউনূস তাঁর বক্তব্যে ২০২৪ সালের জুলাই মাসে সংঘটিত গণঅভ্যুত্থানের প্রসঙ্গ উল্লেখ করেন। বলেন, “এই আন্দোলনে বাংলাদেশের সাধারণ মানুষ—নারী, পুরুষ, তরুণ, এমনকি শিশুরাও সাহসিকতার পরিচয় দিয়েছে। তারা একটি দমন-পীড়নমূলক শাসনের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছে।”
তিনি দাবি করেন, “১৫ বছর ধরে দেশজুড়ে মানুষের অধিকার ও স্বাধীনতা সংকুচিত হয়েছে। রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলো দলীয় করণ ও দুর্নীতির শিকার হয়েছে। জনগণ এই ব্যবস্থার বিরুদ্ধে গণজাগরণ ঘটিয়েছে।”
প্রধান উপদেষ্টা জানান, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ইতোমধ্যে বিচার বিভাগ, নির্বাচন কমিশন, জনপ্রশাসন, পুলিশ, দুর্নীতি দমন কমিশন এবং সংবিধান সংস্কারের লক্ষ্যে ৬টি কমিশন গঠন করেছে। এই কমিশনগুলো ইতোমধ্যে সুপারিশ জমা দিয়েছে।
সংস্কারের কার্যক্রমকে আরো শক্তিশালী করতে গঠন করা হয়েছে ৭ সদস্যবিশিষ্ট জাতীয় ঐকমত্য কমিশন। এই কমিশনের নেতৃত্বে রয়েছেন স্বয়ং ড. ইউনূস। কমিশনের সদস্য হিসেবে রয়েছেন আগে গঠিত ৬টি কমিশনের প্রধানরা।
এছাড়া, আরও চারটি নতুন কমিশন গঠনের কথাও ঘোষণা দেন তিনি, যা গণমাধ্যম, স্বাস্থ্য, শ্রম এবং নারী অধিকার সংক্রান্ত নীতিগত পরামর্শ দেবে।
অধ্যাপক ইউনূস বলেন, “বাংলাদেশ শুধুমাত্র একটি ভূখণ্ড নয়, এটি একটি আদর্শ, একটি সংগ্রাম, একটি স্বপ্ন। সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নে আমরা কাজ করছি।”
তিনি জোর দিয়ে বলেন, “নারী, ধর্মীয় ও জাতিগত সংখ্যালঘু, শ্রমিক কিংবা কৃষক—প্রত্যেক নাগরিকের সংবিধান স্বীকৃত অধিকার আমাদের সরকার রক্ষা করবে।”
ড. ইউনূস বলেন, “এই সরকার এসেছে ক্ষমতা দখলের জন্য নয়, বরং জনগণের হাতে ক্ষমতা ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য।”
তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় বাংলাদেশের এই পরিবর্তনকে স্বাগত জানাবে এবং দেশ পুনর্গঠনের এ যাত্রায় পাশে থাকবে।
বাংলাবার্তা/এমএইচ