
ছবি: সংগৃহীত
থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককে অনুষ্ঠিত ষষ্ঠ বিমসটেক সম্মেলনে অংশগ্রহণ শেষে দেশে ফিরেছেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। শুক্রবার বাংলাদেশ সময় আনুমানিক রাত ১০টা ৫ মিনিটে প্রধান উপদেষ্টা ও তার সফরসঙ্গীদের বহনকারী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইট হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে।
ষষ্ঠ বিমসটেক সম্মেলনে বাংলাদেশের পক্ষে নেতৃত্ব দিয়ে দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার আঞ্চলিক রাজনীতিতে দৃঢ় বার্তা দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। সম্মেলনে অংশগ্রহণের পাশাপাশি তিনি পাঁচটি দেশের রাষ্ট্রপ্রধানের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করে নানা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরেছেন।
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে বৈঠকে সীমান্তে বাংলাদেশি নাগরিকদের হতাহতের বিষয়টি দৃঢ়ভাবে তুলে ধরেন তিনি। একইসঙ্গে তিনি জাতিসংঘ মানবাধিকার হাইকমিশনারের রিপোর্টের ভিত্তিতে বাংলাদেশে ২০২৪ সালের মানবাধিকার লঙ্ঘনের চিত্র তুলে ধরেন, যেখানে ১,৪০০ বিক্ষোভকারী নিহত হওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
ড. ইউনূস ভারতের কাছে শেখ হাসিনার প্রত্যার্পণ প্রসঙ্গে বাংলাদেশের অনুরোধের অগ্রগতি জানতে চান এবং অভিযোগ করেন, তিনি ভারতের মাটিকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করছেন, যা প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে আস্থার সম্পর্ককে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।
এছাড়া থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী পেতোংতান সিনাওয়াত্রার সঙ্গে বৈঠকে ভিসা প্রক্রিয়া সহজ করা ও চট্টগ্রাম থেকে সরাসরি ফ্লাইট চালুর প্রস্তাব দেন। ভুটানের প্রধানমন্ত্রী শেরিং তবগের সঙ্গে কুড়িগ্রামের নির্ধারিত অর্থনৈতিক অঞ্চল নিয়ে আলোচনা করেন তিনি।
শ্রীলঙ্কার প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে চুরি যাওয়া বাংলাদেশি অর্থ ফেরত আনার বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে উত্থাপন করেন। পাশাপাশি মিয়ানমারের উপপ্রধানমন্ত্রী উ থান শের সঙ্গে আলোচনায় রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে অগ্রগতি হয়, যেখানে মিয়ানমার প্রথমবারের মতো ১ লাখ ৮০ হাজার রোহিঙ্গাকে ফিরিয়ে নিতে সম্মত হয়েছে।
সম্মেলনের শেষ দিনে ড. ইউনূস আনুষ্ঠানিকভাবে বিমসটেক-এর নতুন চেয়ারম্যানের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। সদস্য দেশগুলো আশা প্রকাশ করেছে, তার নেতৃত্বে সংস্থাটি নতুন গতিতে এগিয়ে যাবে এবং আঞ্চলিক সংহতি আরও দৃঢ় হবে।
বিমসটেকের এই সম্মেলনকে ঘিরে বাংলাদেশের নেতৃত্ব ও কূটনৈতিক অবস্থান এক নতুন মাত্রায় পৌঁছেছে বলে আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন।
বাংলাবার্তা/এমএইচ