
ছবি: সংগৃহীত
ঈদ মানেই প্রিয়জনের টানে ঘরে ফেরা। তবে এবার রাজধানী ঢাকা যেন সেই পুরনো চিত্রকেও পেছনে ফেলেছে। গত সাত দিনে রাজধানী ছেড়েছেন প্রায় ১ কোটি ৭ লাখ মোবাইল সিমধারী, যা রাজধানীর জনজীবনে বিরল এক শূন্যতা তৈরি করেছে। অপরদিকে ফিরেছেন মাত্র ৪৪ লাখ ৪০ হাজারের মতো মানুষ, যা প্রস্থানকারীর তুলনায় প্রায় আড়াই গুণ কম।
বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) মোবাইল ফোন অপারেটরদের নেটওয়ার্ক বিশ্লেষণ করে এই চিত্র তুলে ধরেছে। ২৮ মার্চ থেকে ৩ এপ্রিল পর্যন্ত রাজধানীর বাইরে যাওয়া ও আগমনকারী সিমের ভিত্তিতে এ তথ্য প্রকাশ করা হয়।
বিশ্লেষকরা বলছেন, এই বিপুল জনস্রোত কেবল ঈদের আবেগেই সীমাবদ্ধ নয়—এতে রয়েছে নগর জীবনের ক্লান্তি, ব্যয়বহুলতা ও স্বস্তির সন্ধানে গ্রামমুখী এক প্রবণতা। ঈদের ছুটি শুধু আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে সময় কাটানোর সুযোগই নয়, বরং এটি হয়ে উঠেছে শহরের একঘেয়েমি ও চাপে ক্লান্ত মানুষের মুক্তির পথ।
বিটিআরসি’র তথ্যমতে, মোবাইল অপারেটর গ্রামীণফোনের ৬৩ লাখ ৭৫ হাজার গ্রাহক রাজধানী ছেড়েছেন। একইভাবে রবি, বাংলালিংক ও টেলিটকের গ্রাহকদের মধ্যেও রাজধানী ত্যাগের হার ছিল উল্লেখযোগ্য।
এদিকে গণপরিবহন, বাস ও রেলস্টেশনে যাত্রীদের ভিড় এবং দীর্ঘ সারি স্পষ্ট করে দিয়েছে এই অভিবাসনচিত্র। রাজধানীর রাস্তাগুলোয় এখন নেই সেই চেনা যানজট, অফিসপাড়া প্রায় নিশ্চল, আর বাজারগুলোতে চোখে পড়ে স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক কম ভিড়।
অর্থনীতিবিদ ও নগরপরিকল্পনাবিদরা মনে করছেন, এই সময়কালের সিমচিত্র কেবল একটি মৌসুমি চলাচল নয়, বরং এটি দেশের অভ্যন্তরীণ জনবিন্যাস ও শহর-কেন্দ্রিকতা নিয়ে নতুন করে ভাবার ইঙ্গিত দেয়।
একজন নগর গবেষক বলেন, “ঢাকার ওপর যে মাত্রাতিরিক্ত চাপ পড়েছে তা স্পষ্ট। ঈদের সময় মানুষ যখন একসঙ্গে চলে যায়, তখন শহরের প্রকৃত ভার কতটা বেশি—তা বোঝা যায়।”
এই সময়ে গ্রামীণ অর্থনীতিতেও দেখা গেছে নানারকম গতি—বাড়ি ফেরা মানুষদের উপস্থিতিতে স্থানীয় বাজারগুলোয় বেড়েছে কেনাকাটা, বাড়ছে কর্মসংস্থান ও পারিবারিক যোগাযোগ।
বাংলাবার্তা/এমএইচ