
ছবি: সংগৃহীত
চট্টগ্রামে এবারের ঈদ যেন নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতার প্রতিচ্ছবি। ১৬ বছর ধরে বিভিন্ন প্রতিকূলতার মধ্যে থাকা বিএনপির নেতাকর্মীরা এবার প্রথমবারের মতো ঈদ উদযাপনে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন। নির্বাচনের প্রস্তুতি এবং সাংগঠনিক শক্তি প্রদর্শনের অংশ হিসেবে তারা বিভিন্ন এলাকায় মেজবানি আয়োজন করেছেন, কর্মী-সমর্থকদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেছেন।
বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর মেহেদীবাগের বাসায় আয়োজিত মেজবানে বিপুল মানুষের সমাগম হয়। এসময় তিনি নেতাকর্মীদের আশ্বস্ত করে বলেন, ‘গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের লড়াই এখন বাস্তব রূপ নিতে যাচ্ছে, নেতাকর্মীরা এখন উজ্জীবিত।’ একইভাবে ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন, ইদ্রিস মিয়া, এনামুল হক এনামসহ একাধিক বিএনপি নেতা ঈদের আয়োজনে নেতাকর্মীদের উজ্জীবিত করেছেন।
অপরদিকে, জামায়াত ইসলামী চট্টগ্রামের ১৬টি আসনে তাদের মনোনীত প্রার্থীদের প্রচারণার অংশ হিসেবে ঈদ উপলক্ষে গণসংযোগ চালিয়েছে। বিভিন্ন স্থানে পোস্টার লাগিয়ে নিজেদের উপস্থিতি জানান দিয়েছে দলটি।
এদিকে, চট্টগ্রামে আওয়ামী লীগ নেতাদের মধ্যে ছিল ভিন্ন চিত্র। দীর্ঘ ১৬ বছর ধরে ঈদে জমকালো আয়োজনে অভ্যস্ত আওয়ামী লীগ নেতাদের অনেকেই এবার আত্মগোপনে থাকায় উৎসবের রং ফিকে হয়ে গেছে। ৫ আগস্টের পর থেকে অনেক এমপি-মন্ত্রী এলাকা ছাড়ায় তারা এবার নেতাকর্মীদের সঙ্গে ঈদ উদযাপন করতে পারেননি। মাঠের কর্মীরা অভিযোগ করেছেন, ‘নেতারা আমাদের ব্যবহার করেছেন, কিন্তু দুঃসময়ে পাশে নেই।’
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, চট্টগ্রামের এই চিত্র আগামী নির্বাচনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত দিচ্ছে। বিএনপি মাঠে সক্রিয় হচ্ছে, আর আওয়ামী লীগ নেতৃত্ব সংকটে পড়েছে। আগামি দিনগুলোতে এই ধারা কীভাবে রাজনৈতিক দৃশ্যপটকে প্রভাবিত করবে, তা এখন দেখার বিষয়।
বাংলাবার্তা/এমএইচ